Posted: October 25, 2010 in ALL ARTICLE

>বৈদগ্ধ্যের আসর: আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর স্মরণ সভা
ইমরুল হাসান


ছবি : অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতেছেন কবি রিফাত চৌধুরী

কাজল শাহনেওয়াজ ব্যাপারটারে ‘বৈদগ্ধ’ বইলা এড়াইয়া গেলেন। ব্যাপারটারে আসলে আরো অনেক কিছুই বলা যাইতো হয়তো, যেইটা ঘটলো আবদুল মান্নান সৈয়দ এর স্মরণসভার অনুষ্ঠানটাতে…
স্মরণসভাটা ছিলো পাবলিক লাইব্রেরি’র ২ তলায় উইঠা বামদিকে যে ছোটরুম সেইটাতে, গত ২৩ অক্টোবর ২০১০ইং, বাংলা ৮ কার্তিক ১৯১৭ তারিখ, শনিবার বিকাল ৪টায়, আয়োজন করছে : জ্যোস্না-রোদ্রের চিকিৎসা (আমার ধারণা, আসলে কাজল শাহনেওয়াজ এবং সাব্বির আজম দুইজনেই পুরাটা করছেন, একটা সাহিত্য-সভা আয়োজন করতে আসলে খুব বেশি কিছুর দরকার নাই, ২/৩ জনের ইচ্ছাটা থাকলেই হয়, এইরকম সহজ-ই মনে হইলো ব্যাপারটা, অবশ্য যাঁরা করছেন, তাঁরা হয়তো ভালো বলতে পারবেন!…)
আমার যেহেতু সাহিত্য-সভাগুলাতে যাওয়ার খুব একটা অভ্যাস নাই, বেশ সময় মতোই পৌঁছাইয়া গেছিলাম, তখন বুঝলাম যে একটু দেরি করা যাইতো, যা-ই হোক, তখন আজিজ মার্কেটে গিয়া একটা বই কিনার কাজ শেষ কইরা আসলাম, পৌনে ৫টার দিকে… তখন আসলে প্রকৃত সময় হইছে…
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেছিলেন শামীম সিদ্দিকী, বেশ ভালো ‘গলা’ এবং উচ্চারণ ভঙ্গিমা, পরে বুঝা গেলো যে এর চেয়ে ভালো উচ্চারণ-ভঙ্গিমা আসলে চয়ন এর… যা-ই হোক, প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন, রাজু আলাউদ্দিন… প্রথমে কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা খুনসুটি… তারপরে মূল প্রস্তাবনা, লিখিত বক্তব্য-পাঠ… ব্যাপারটা প্রথমেই চোখে পড়লো, হায় হায় আবদুল মান্নান সৈয়দ তাইলে খালি গবেষক আর প্রাবন্ধিক-ই হয়া রইলেন… তাঁর কবিতা কি তাইলে নাই? বা যট্টুকু আছে, সেইটাই বা বলার মতো কি?… আমি ভাবছিলাম যে, কাজল শাহনেওয়াজ যখন আমারে ২লাইন লিখতে বললেন আবদুল মান্নান সৈয়দ নিয়া তখন আমি যা লিখলাম, সেই ভুলটাই একমাত্র হিসাবে থাকলো? কিংবা তারচেও মলিন একটা কিছু… রাজু আলাউদ্দিন এর কথা যট্টুক শুনছি, তাতে আবদুল মান্নান সৈয়দ এর মূল পরিচয় বাইর হয়া আসছে যথাক্রমে বাংলা-কবিতায় পরা-বাস্তববাদ এর আধুনিক আমাদানীকারক, গবেষক, সম্পাদক, প্রবন্ধকার (গল্প আর নাটক মনে হয় বাদ গেছে, আর গেলেও খুব একটা সমস্যা নাই…), কিন্তু মূলত গবেষণা আর প্রবন্ধ এর ভিতরই তাঁর প্রবন্ধ ঘুরপাক খাইছে… এইটাতেও সমস্যা নাই, সমস্যা সম্ভবত একটাই যে, আমি আসলে একজন কবি’র স্মরণ-সভায় অংশগ্রহণ করতে গেছিলাম, গিয়া দেখি, কবি আসলে শুধু কবি না, গবেষক, প্রবন্ধকার, সম্পাদক এবং এমনকি, এইগুলা-ই মুখ্য… কবি আর নাই!
এরপর বললেন প্রবীণ কবি নুরুল হক বললেন, প্রবীণ কবি’র কথা আসলে শোনার কোন দরকার নাই, কিন্তু তারে বলতে দেয়ার হয়তো দরকার আছে… উনি বলছেন, কিন্তু আমি খুব একটা কিছু শুনি নাই, কারণ তাঁর প্রবীণতার ভিতর কোন কিছুরে বিরোধিতা করার শক্তি বা সাহস কোন কিছু অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় নাই, তাঁর যে একটা সময়, সেইটার ভিতরই তিনি চোর-পুলিশ খেলতেছেন হয়তো…
পুলক হাসান এর কথা শোনা হইলো, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ছিলেন কবি’র সাথে… অনেক কথার ফাঁকে হয়তো একবার শুনলাম যে তিনি বলতেছেন, কবি একবার আক্ষেপ কইরা বলছিলেন, ওঁরা আমারে গবেষক বানাইতে চায়, কবিতারে ইগনোর করার চেষ্টা করে – এই টাইপ কোন কথা… আর এইখানে এর চাইতে ব্যতিক্রম আর কী হইতেছে! আবদুল মান্নান সৈয়দ একজন ব্যর্থ কবি, সাহস কইরা এই কথাটা অন্তত কেউ বলুক…
এই স্মরণ-সভা উপলক্ষে ১ফর্মা বাইর করা হইছে, সেইখানে কাজল শাহনেওয়াজ লিখছেন যে, শেষ পর্যন্ত আবদুল মান্নান সৈয়দ একজন কবিই। কিন্তু বলতে গিয়াই একটু আনমনা হয়া গেলেন। এইসব আলোচনারে বললেন, বৈদগ্ধ।
উপস্থাপক আসলে পরিচিতজনদেরকেই ডাকতেছিলেন, অপরিচিত হিসাবে আমার নাম বলতে গিয়া একটু আটকাইলেন, তারপর আহ্ববান জানাইলেন, আবদুল মান্নান সৈয়দ এর কবিতা আবৃত্তি করতে, আমি তো বেশ অবাক, কাজল শাহনেওয়াজ কইলেন যে, এই ব্যক্তি নিজের কবিতা পড়বেন, আবদুল মান্নান সৈয়দরে নিয়া, তো উপস্থাপক যখন সঠিকভাবে নাম এবং বিষয়টা উচ্চারণ করতে পারলেন, তখন ঘর-ভর্তি কয়েকজনের বিস্ময়াভূত চোখ নিয়া সামনে আগাইলাম, ৩ লাইন পইড়া আসলাম, এর চাইতে বেশি কিছু তো আমার বলার দরকার ছিল… কিন্তু এমন অনেক কিছু না-বলার ভিতর রাখা হয়া গেছে… বলতে তো আসি নাই, আসছি শুনতে, সেইটাই করি না হয়…
নাম শুইনা শিমুল সালাহউদ্দিন চিনলেন, হাত বাড়াইলেন… তখন বলতে আসছেন, চয়ন খায়রুল হাবিব, উনার কণ্ঠ আগে শুনি নাই, এইলোক তো পারফর্মার… কইলেন, উচ্চারণ বিষয়ে, পারিপার্শ্বিকতা, হ্যাবিট্যাট, ঢাকাইয়া লোকাল এবং ভুলে যাওয়া সাবদার সিদ্দিকী… কথাগুলি ছড়াইতে গিয়া কোন জায়গা হয়তো খুঁইজা পায় না আর, একটা সময় হাওয়ায় ভাসতে থাকে শুধু, এইরকম একটা কিছু মনে হইলো, তারপরও কিছু কথা তার কাছ থিকাই শোনা যাচ্ছিলো…
ও এর আগে, মোহাম্মদ আযম কিছু বলছিলেন, আমার মনে হইছিলো, হানিফ সংকেতের এর চাইতে ভালো অনুকরণ হওয়া সম্ভব…
চয়ন এর কথার পর শিমুলরে নিয়া সিগ্রেট খাইতে গেলাম… ফিরার পর দেখি, শিমুল আবৃত্তি করবে আবদুল মান্নান সৈয়দ এর কবিতা, আবৃত্তি জিনিসটা নিয়া আসলে এখনো ঝামেলা ফিল করি, এইটা আবারও খেয়াল করতে পারলাম… তবে উপস্থাপক এর অধৈর্য্য দেইখা বুঝা গেলো, এই ক্রাউড আসলে কবিতা শুনতে আসে নাই, যখনই ২ থিকা ৩ নম্বর কবিতা পড়তে যাইবো শিমুল, তখনই সময় স্মরণ করা হইলো, আরো ৫ জন তখনও বলার বাকি… আর পুচকে পোলা কেন এত টাইম নিবে!
ওহ্ হো, এর আগে আহমদ মাযহারও বলছেন, মূলত বইয়ের জগৎ এর প্রচারণা, এইটা ভালো, খারাপ না… টেপ কইরা রাখলে, ছাপানোর সময় শিরোনাম দেয়া যাইতো, বইয়ের জগৎ ও আবদুল মান্নান সৈয়দ… হয়তো এতোটা ছিল না, এখন যেমন মনে হইতেছে, তবে সারাংশ আসলে ওই পর্যন্ত…
ভালো হইলো, অনেকদিন পর রিফাত ভাইর সাথে দেখা হইয়া… দেইখা বুকে জড়াইলেন, প্রথম কথা, লিখতেছেন তো? ওনার পাশে বইসা অনেকক্ষণ কুটুর কুটুর করলাম, কইলেন যে, গদ্য লিখেন বেশি করে, আপনার গদ্যই পাঠককে কবিতার দিকে নিয়ে আসবে… কইলাম, আপনার গদ্যগুলারই তো কোন সংকলন করেন না… কথা এড়াইয়া যান, ক্রমাগত এইটা-ওইটা বলেন, সাথে ২ জন ভক্তও নিয়া আসছিলেন, রাতে সিলেট যাবেন, সাথে কাপড়ের ব্যাগ… কিন্তু যখন বলতে উঠলেন, তখন অন্য রিফাত চৌধুরী, কোন জড়তা নাই, এইরকম আমি আগে তারে দেখি নাই, খুবই সাবলীল… আর যা বললেন, যেইভাবে বললেন, মন থিকাই বললেন… যেই কথাটা কাজল বলতেছিলেন, রিফাতও বললেন… আবদুল মান্নান সৈয়দ আকাশে উড়তেছিলেন, উনারে যখন আমরা নিচে নামাইয়া নিয়া আসলাম, তখন দেখলাম, উনি একটা নদী, মাছ খলবল করতেছে…
তিনি তো আসলে মাছ সিরিজেরই কবি, আমার কাছে!
সরকার মাসুদ যখন বলার জন্য উঠলেন তখন বাইর হইলাম, মনু আসছে বাইরে, ওর সাথে গিয়া কথা বলি বরং, শিমুলও ছিলো বাইরে, রাজু আলাউদ্দিনের পোলারে আইসক্রিম খাওয়াইতেছিলো… ৩ জনে মিইলা কাবাব-পরোটা খাইলাম, সিগ্রেট… ফিরা আইসা দেখি, প্রোগ্রাম শেষ…
শিহাব সরকার পরে আইসা কিছু বলতেছিলেন, আসলে প্রবীণদের কথায় শোনার মতো তেমন কিছু নাই… যদি কফিল আহমেদ কিছু বলে থাকেন, সেইটা শুনতে না-পারার কিছুটা আফসোস থাকলো… আসলে বৈদগ্ধের কথা শুনতে শুনতে মনে হয়তো গ্লানি জমতেছিলো, তাই খারাপ লাগাটাও খুব একটা ছিল না…
মনু জিগাইতেছিলো, আজকে তো শামসুর রাহমান এর জন্মদিন, এইরকম দিনে কেন আবদুল মান্নান সৈয়দ এর স্মরণ-সভার আয়োজন করা হইলো? কাজল শাহনেওয়াজ-এর সাথে কথা বইলা মনে হইছে, একটা কো-ইনসিডেন্স, আসলে খেয়াল করা হয় নাই… আবার অন্যদিক দিয়া চিন্তা করলে, ব্যাপারটা আমার কাছে কাকতালীয় মনে হয় নাই, কারণ দেখেন, শামসুর রাহমান সেক্যুলার-এর রাজনীতি করছেন, অন্যদিক দিয়া আবদুল মান্নান সৈয়দ-এর রাজনীতিটা এই জায়গায় ছিলো না, যদি আদতে কিছু থাইকা থাকে, বরং তিনি ফররুখ আহমেদরে নিয়া আসছেন, নজরুলরে আনছেন, যদিও জীবনানন্দরেও আনছেন (জাতীয় যাদুঘরে তখন জীবনানন্দের উপরও প্রোগ্রাম চলতেছে, জীবনানন্দ কেন জানি ইদানিং ভারতীয় ভারতীয় লাগে…), সেইটা-ই হাইলাইটেড বেশি, কারণ রাজনীতিটা এখন সেইটারই, একইদিনে এই ২ জন কবি’র ২টা অনুষ্ঠান সাহিত্যের এই ভিন্ন রাজনীতিরে রিপ্রেজেন্ট করতে পারে কিনা সেইটাও হয়তো ভাবা যাইতে পারে… মনু তখন জিগাইলো, এইখানে যারা পার্টিসিপেট করতে আসছে, তাদেরকে দেইখা আপনার কি তা মনে হয়?… আবিশ্যিকভাবেই না!
তারপরও হয়তো, এই সিগনিফিকেন্সটাই আমার মনে হইতেছিলো, এইরকমটা হইলেও তো হইতে পারতো!!

ঢাকা, ২৪/১০/১০.
Source: http://www.samowiki.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s